কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, সকলকে আমার ওয়েবসাইটে স্বাগতম। কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও
অপকারিতা - কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি, সম্পূর্ণ
আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - যেসব
কারণে খাবেন কাঠবাদাম এই বিষয়টি জেনে আপনি উপকৃত হবেন।
চিত্র ১: কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম
আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকেন তাহলে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও
অপকারিতা - কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে
চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ
- ভূমিকা
- কাঠবাদাম কি
- কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ
- কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা
- কাঠবাদাম খাওয়ার অপকারিতা
- কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম
- প্রতিদিন কয়টা কাঠবাদাম খাওয়া উচিত
- কাঠ বাদামের ক্ষতিকর দিক
- চিত্র ২: কাঠবাদাম খাওয়ার কার্যকরী ১৫টি উপকারিতা - কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
- কাঠবাদাম সম্পর্কে
- কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- কাঠবাদাম খাওয়ার কার্যকরী ১৫টি উপকারিতা
- কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
- লেখকের শেষ কথা
ভূমিকা
খাদ্য তালিকায় কাঠবাদাম সচেতন মানুষদের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম আদর্শ খাবার। কাঠ
বাদামে অধিক পরিমাণে পুষ্টিগুণ তাই এই খাদ্যটি টি প্রায় সকল মানুষেরাই
পছন্দ করে থাকে। যতগুলো ড্রাই ফুড রয়েছে তার মধ্যে কাঠবাদাম এর পুষ্টিগুণ অনেক
বেশি। এটি খেতে সুস্বাদু আবার এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও রয়েছে।
আবার কেউ যদি প্রয়োজনে চেয়ে অতিমাত্রায় এটি খেয়ে ফেলেন তাহলে ক্ষতি হওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আজকে আপনাকে জানাবো কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও
অপকারিতা, কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম এবং কাঠ বাদামের ক্ষতিকর দিকসহ অন্যান্য
কিছু তথ্য। আমার বিশ্বাস, সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে এই সম্পর্কে আপনার
বিস্তারিত ধারণা হয়ে যাবে।
কাঠবাদাম কি
কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নেওয়ার আগে চলুন কাঠ বাদাম কি সে
বিষয়ে এক পলক দেখে নেই। কাঠবাদাম বা Almond হচ্ছে টিয়ার ড্রপ আকৃতির এক
প্রকারের বীজ যেটি গাছের ফল এবং কাঠের মত একটি খোলসের আবরণে আবদ্ধ থাকে। আর সেই
খোলসে ভেতরে থাকে কাঠবাদামের অংশটি।
এই কাঠবাদাম গাছ নিরক্ষীয় অঞ্চলে জন্মানো Combretaceae পরিবার সমৃদ্ধ
একটি বৃক্ষ। কাঠবাদাম কে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- জানমান্দি
, বেঙ্গল আখরোট, মালাবার আখরোট, নিরক্ষীয় আক্রান্ত এবং ছাতা গাছ।
কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ
যতগুলো ড্রাই ফুড রয়েছে তার মধ্যে কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এতে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ডি যা মানবদেহে
বিভিন্নভাবে উপকারে আসে। এছাড়াও এতে রয়েছে ফলিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম,
আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সেলোনিয়াম, কপার ও ক্যালসিয়াম।
আমাদের শরীরের জন্য এ সকল খনিজ পদার্থ অনেক উপকারী। এ বিষয়টা আমরা সকলেই
জানি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যদি প্রতিদিন এক মুঠো কাঠ বাদাম খান তাহলে
আপনার শরীরের জন্য এটি অনেক কার্যকরী একটি খাদ্য উপাদান। প্রতি ৫০ গ্রাম কাঠ
বাদামে রয়েছে-
- ফ্যাট (২৫ গ্রাম)
-
এনার্জি (২৮৫.৫ ক্যালোরি)
-
আয়রন (১.৯৩ মিলিগ্রাম)
-
কার্বোহাইড্রেট (২১.৪৩ গ্রাম)
-
ফাইবার (৫.৩৫ গ্রাম)
-
ভিটামিন বি (০.৪৫৫ মিলিগ্রাম)
- কপার (০.৫৩৫ মিলিগ্রাম)
-
প্রোটিন (১০.৭১৫ গ্রাম)
- ম্যাগনেসিয়াম (১৪৩মিলিগ্রাম)
- পটাশিয়াম (৩৫৭ মিলিগ্রাম)
কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা
কাঠবাদামের অধিক পরিমাণ সমৃদ্ধ পুষ্টি অবশ্যই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে
সাহায্য করে। মিনারেল ও ভিটামিন আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি
করে যা কাঠবাদামে রয়েছে। এজন্য বলা যায় প্রকৃতপক্ষে সুস্থ থাকতে হলে
কাঠবাদাম খাওয়া অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন এর উপকারিতা
সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখা: কাঠবাদামে রয়েছে মিনারেল ও ভিটামিন যা আমাদের দেহের হৃদপিণ্ড বা হার্ট কে
সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই, পটাশিয়াম,
ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিন হৃদপিন্ডের কার্যক্ষমতা
বাড়াতে সহায়তা করে। এজন্য হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: কাঠবাদামের রয়েছে অধিক পরিমাণে ফাইবার ও অল্প পরিমানে কার্বোহাইড্রেট। যার
ফলে, আপনি যদি নিয়মিত কাঠবাদাম খেতে পারেন তাহলে রক্তে শর্করার উৎপাদন কমে
যায় এবং ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণ হয়।
গর্ভবতী মায়ের জন্য উপকারী: গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধির জন্য কাঠবাদাম অনেক উপকারী। কারণ,
কাঠবাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি যা গর্ভাবস্থার
শিশুর বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে গর্ভস্থ শিশুর জন্মের সময় বিভিন্ন
সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করনে: কাঠ বাদামে ভিটামিন বি সহ আরো অন্যান্য ভিটামিন এবং শক্তিশালী
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে এগুলো মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
করতে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে: আমরা জানি, সাধারণত ফাইবার প্রোটিন এবং ফ্যাট সমুদ্র কাঠবাদাম খেলে ক্ষুধা
নিবারণ হয়ে যায়। আপনি যদি, প্রতিদিন ৫০ গ্রাম কাঠবাদাম খেতে পারেন তাহলে
তার হৃদরোগে ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ওজন বৃদ্ধি কমিয়ে আপনার ওজনকে
নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।
প্রদাহ কমাতে: কাঠবাদামে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড ও লিনোলিয়েক এসিড যা শরীরের প্রদাহ
কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: কাঠবাদামে রয়েছে ফাইবার যেটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। আপনি
যদি নিয়মিত এই উপকারী কাঠবাদাম খেতে পারেন তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে
অনেকটাই রেহাই পাবেন। তবে ভালোভাবে পরিপাক হওয়ার জন্য কাঠবাদাম খাওয়ার সাথে
অধিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে: ৫০ গ্রাম কাঠবাদামে ২৫ গ্রাম ফ্যাট থাকার ফলে প্রায় অনেকেরই
ধারণা যে বাদাম খেলে শরীরের ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু এই ২৫ গ্রাম
ফ্যাটের মধ্যে ১৫ গ্রামই রয়েছে মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড যা আমাদের
মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। এই এসিড রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল মাত্রা হ্রাস
এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।
কাঠবাদাম খাওয়ার অপকারিতা
কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতার কথা ভেবে আমরা অনেকেই অধিক পরিমাণে কাঠবাদাম
খেয়ে থাকি। কিন্তু অতিমাত্রায় কাঠবাদাম খেলে যে শরীরে এক ধরনের প্রভাব
ফেলবে সেই কথা কি একবার চিন্তা করেছেন? খাওয়ার উপকারিতা থাকার
পাশাপাশি এর কিছু অপকারিতা রয়েছে। তাহলে চলুন, আমরা জেনে নেই, যে কাঠবাদাম
বেশি পরিমাণে খেলে কি সমস্যা ফেলতে পারে।
- কাঠবাদাম প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কাঠবাদাম পরিমাণ মত খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে কিন্তু অধিক পরিমাণে কাঠবাদাম খেলে উচ্চমাত্রা প্রোটিন আমাদের দেহের প্রয়োজন বৃদ্ধির পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
- অধিক মাত্রায় কাঠবাদাম খেলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা রয়েছে।
- যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কাঠবাদামে ম্যাগনেসিয়াম থাকার ফলে অতিমাত্রায় এটি খেলে অনেক সময় ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি ঘটতে পারে।
- কাঠবাদামে একটি টেনিন নামক উপাদান রয়েছে যা দেহের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- যেসব ব্যক্তি ভিটামিন এ জাতীয় সাপ্লিমেন্ট খায় তাদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম খেলে শরীরের ভিটামিন ই ওভারডোজ হয়ে যেতে পারে। যার ফলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
- বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের কাঠবাদাম না খাওয়াই উত্তম কারণ এতে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম কিডনি রোগীর উপর বেশ ক্ষতিকারক।
কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম
আমরা জানি, কাঠবাদাম সাধারণত শুকনো, ভেজে এবং পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যায়।
চিকিৎসকের মতে, আপনি যদি কাঠবাদাম পানিতে ভিজিয়ে খান তাহলে সবচেয়ে বেশি
উপকার হবে। এর এনজাইমগুলো পানিতে ভিজে রাখার পরে সক্রিয়তা লাভ করে
থাকে। কাঠবাদাম ভেজে খেলে এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি নষ্ট
হয়ে যায় এজন্য কাঠ বাদাম কাঁচা বা ভিজিয়ে খাওয়া ভালো।
কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখলে বেশ নরম হয়ে যায়, যা আমাদের মানবদেহের পাকস্থলী
সহজে হজম করতে সক্ষম হয়। এটি ভিজিয়ে রাখার পরে এর ওপরে আস্তরণ ফেলে
খেলে ক্ষতিকর আস্তরণটি বের হয়ে যায়।
রাতে ঘুমানোর পূর্বে কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাবার ক্ষেত্রে প্রথম একটি পাত্রে
একমুঠো কাঠ বাদাম নিয়ে তাতে ভিজিয়ে সামান্য লবণ দিয়ে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা
রেখে দিন। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে খোসা ছাড়িয়ে খেয়ে নিন। তাহলে
আপনার সারাদিনের জন্য শরীরের শক্তি সঞ্চার করতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও কাঠবাদাম অন্যান্য খাবারের সাথেও খাওয়া যায় যেমন- ভালো আসে নাই
পায়ের ইত্যাদি খাবারগুলোতে সাধারণত আমরা কাঠ বাদামের কুচি করে সেসব
খাবারগুলোতে পরিবেশন করি। তবে আপনি যদি গরুর দুধের সাথে কাঠবাদাম খেতে
পারেন তাহলে, এটি আপনার মানবদেহে জন্য অনেক উপকারী খাদ্য উপাদান হিসেবে কাজ
করবে।
প্রতিদিন কয়টা কাঠবাদাম খাওয়া উচিত
প্রতিদিন কয়টা কাঠবাদাম খাওয়া উচিত সেটি নির্ভর করবে আপনি আসলে কি
উদ্দেশ্যে কাঠবাদাম খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, কেউ যদি ওজন
বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কাঠ বাদাম খেয়ে থাকে তাহলে সকাল থেকে শুরু করে
সারাদিনে ৩০ থেকে ৩৫টির মতো কাঠবাদাম খাওয়া উচিত।
অনুরূপভাবে, আপনি যদি ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে খেয়ে থাকেন তাহলে ভেজানো
কাঠবাদাম দুধের সাথে.৪ থেকে ৫ কাঠবাদাম খাওয়া উত্তম।
কাঠ বাদামের ক্ষতিকর দিক
কাঠবাদাম বিশেষ করে এজমা বা শ্বাসকষ্ট যাদের রয়েছে যেমন ছোট বাচ্চা এবং
বয়স্কদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম খাওয়ার উপর বেশ সর্তকতা জারি রাখতে হবে। আবার
যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মানবদেহে ফোলা ফোলা ভাব
শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা এবং শহীদের তীব্র চুলকানি দেখা দিতে পারে।
এক্ষেত্রে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কাঠবাদাম
অতিমাত্রায় খাওয়ার ফলে যেসব সমস্যা বা ক্ষতিকর দিক দেখা দিতে পারে
সেগুলো হচ্ছে-
- বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে
- ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
- ওজন বৃদ্ধি হতে পারে
- কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
- এলার্জির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে
- খাবার গিলতে অসুবিধা দেখা দেয়
চিত্র ২: কাঠবাদাম খাওয়ার কার্যকরী ১৫টি উপকারিতা - কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
কাঠবাদাম সম্পর্কে
কাঠবাদাম একটি বৃহদাকৃতির গাছের ফলের বীজ যার বৈজ্ঞানিক নাম
হচ্ছে Terminalia catappa । কাঠ বাদাম গাছের ফলের অভ্যন্তরে তিন সেন্টিমিটার দীর্ঘ কয়েকটি বীজ
থাকে যার পরিপক্ক ফল থেকে বের করার পরে সরাসরি খাওয়া যায়। সাধারণত এই
বীজগুলিই কাঠবাদাম হিসেবে পরিচিত।
এটি ড্রাই ফুড এর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় কেননা অন্যান্য ড্রাই ফুডের চেয়ে
পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি। কাঠবাদামে রয়েছে উপকারি ফ্যাট, ভিটামিন-ই,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার বা আঁশ যা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগ
প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে কপার,
আয়রন ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি।
প্রতিনিয়ত নিয়মিতভাবে কাঠবাদাম খেলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
দূর করতে সহায়তা করে। এজন্য আজকের এই আর্টিকেলে কাঠবাদাম খাওয়ার
কার্যকরী ৩৪টি উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি। তার আগে চলুন
কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম সেই বিষয়টি জেনে নিই।
কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
কাঠ বাদাম কয়েকটি উপায়ে খাওয়া যায় যেমন কাঁচা, শুকনো, ভাজা কিংবা
পানিতে ভিজিয়ে রেখেও খাওয়া যায়। হবে তবে কাঠ বাদাম কিভাবে খেলে বেশি
উপকার পাওয়া যাবে সেই বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা কাঠ
বাদামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। যা ভাজা অথবা শুকনো
বাদাম থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। বাদাম ভাজার ফলে এর কিছু কিছু পুষ্টিগুণ
নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন, এতে বিদ্যমান ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি তাপের কারণে নষ্ট হয়ে
যায়। কিন্তু অনেকেই কাঁচা খাওয়ার চেয়ে সামান্য ভেজে খেতে পছন্দ করে
এভাবে অবশ্য খেতে একটু বেশি সুস্বাদু মনে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি উপকারী
হবে রাতে ঘুমানোর পূর্বে কাঠবাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ঘুম থেকে
উঠে খেলে। আশা করছি কাঠ বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে পেরেছেন।
কাঠবাদাম খাওয়ার কার্যকরী ১৫টি উপকারিতা
কাঠবাদামে বিদ্যমান পুষ্টির উপাদান মানব শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আপনি
যদি প্রতিনিয়ত কাঠবাদাম খেতে পারেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ধরনের
রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাবেন। নিম্নে আপনাদের মাঝে কাঠবাদাম খাওয়ার
কার্যকরী ১৫ টি উপকারিতা আলোচনা করা হলো।
১. স্ট্রোক প্রতিরোধেঃ কাঠবাদাম স্ট্রোক প্রতিরোধে করতে সহায়তা করে। সাধারণত স্ট্রোক
বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে যেমন উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে, ওজন বৃদ্ধির
কারণে, ডায়াবেটিস ইত্যাদি সমস্যার কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকে। তবে
এই কাঠবাদাম ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি ও উচ্চ রক্তচাপ সকল সমস্যার থেকে
রেহাই পেতে বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. হজম শক্তি বৃদ্ধিতেঃ কাঠবাদাম নিয়ম মেনে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
যাদের হজমে সমস্যা আছে তারা নিয়মিত কাঠবাদাম খেতে পারেন এতে আপনি
উপকৃত হবেন।
৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেঃ কাঠবাদাম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য
করে। এদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ
(High Pressure) নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়ঃ কোলেস্টেরলের মাত্রা
বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাঠবাদাম
এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা
করে।
৫. কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেঃ বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা
দেয়। কাঠবাদামের রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ খাবারগুলো হজম করতে
সাহায্য করে। সুতরাং কাঠবাদাম এই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা পালন
করে থাকে।
৬. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকরনেঃ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য কাঠবাদাম উত্তম একটি খাদ্য।
কাঠবাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মিনারেলস এবং ভিটামিন-বি কোষগুলোকে
শক্তিশালী করে তোলে এবং স্মৃতিশক্তি যথাযথভাবে বৃদ্ধি করতে সহায়তা
করে।
৭. ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ সাধারণত কোলন ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য
প্রতিনিয়ত কাঠ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করে তুলতে হবে। কেননা কাঠবাদামের
রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক
কার্যকরী।
৮. হাড় মজবুত করণেঃ কাঠবাদাম মানবদেহের হাড় মজবুত করার পাশাপাশি দাঁতের সুরক্ষার
ক্ষেত্রেও খুবই উপকারী। কারণ এতে রয়েছে ফসফরাস যা দাঁত মজবুত
করতে ভূমিকা পালন করে।
৯. মস্তিষ্কের উন্নতি করনেঃ কাঠবাদাম প্রতিদিন নিয়মমাফিক ৫টা থেকে ৬টা ভিজে খাবার ফলে
মস্তিষ্কের বিকাশ বা উন্নতি ঘটে।
১০. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কেননা এতে রয়েছে শক্তিশালী এন্ড এক্সিডেন্ট
ও ভিটামিন বিভিন্ন রোগ থেকে রেহাই বা মুক্তি দেয়।
১১. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেঃ কাঠ বাদামের তেলের সাহায্যে ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
কারণ কাঠবাদামের টেনে রয়েছে ভিটামিন এ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার
পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্নি থেকে রক্ষা করে থাকে।
১২. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করেঃ কাঠবাদাম শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে। নিয়মিত
পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার পাশাপাশি কাঠ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে
হবে, তাহলে কাঠবাদামে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান মানবদেহের শক্তি বৃদ্ধি
করতে সাহায্য করবে।
১৩. ডায়াবেটিসে উপকারীঃ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন তাদের জন্য কাঠবাদাম খাওয়াটা অনেক
উপকারী। কেননা এত রয়েছে অতি স্বল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যা সহজেই
রক্তের সুগারের মাত্রা বাড়াতে দেয় না। এছাড়াও। এর মধ্যে রয়েছে
পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার যা ক্যালরি চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
১৪. গরুর দুধের পরিবর্তে কাঠবাদামঃ যে সকল ব্যক্তিদের গরুর দুধে এলার্জি অথবা অসুবিধা
রয়েছে। সে সকল ব্যক্তিরা গরুর দুধের পরিবর্তে কার্ড বাদামের দুধ খেতে
পারেন এটি মানব শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
১৫. গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারীঃ এক গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে গর্ভস্থ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি হওয়ার
আশঙ্কা বেশিরভাগই কমে যায়। এর পাশাপাশি এ সময় গর্ভবতী মায়ের জন্য
কাঠবাদাম খাওয়া অনেক কার্যকরী।
কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে কাঠবাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে খেলে
সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কাঠবাদাম ভিজিয়ে রেখে খেলে একটি
খেতে অনেকটা নরম মনে হয় এবং তার সহজেই হজম হয়ে যায়। এছাড়াও এটি
ভিজিয়ে রাখা হলে সাইট্রিক এসিড এর পরিমাণ হ্রাস পায় যার
মাধ্যমে খনিজ শোষণ করতে কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি হয় না।
কাঠবাদামের আস্তরণের এক ধরনের ট্যানিন উপাদান রয়েছে যার ফলে এটি
খেতে একটু কম সুস্বাদু মনে হয় আবার এই উপাদানের পরিমাণ বেড়ে গেলে
শরীরের জন্য ক্ষতিকার প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঠ বাদাম
ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদান পরিমাণে কমে যায়। সুতরাং, কাঠবাদাম ভিজিয়ে
খাওয়ার খাওয়ার উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। কাঠবাদাম কতক্ষণ এবং কিভাবে
ভিজিয়ে রাখতে হবে? এই প্রশ্নটি প্রায় বেশিরভাগ মানুষই করে থাকেন।
প্রথমে একটি বাটিতে পরিমাণ মতো কাঠবাদাম নিয়ে তাদের পর্যাপ্ত পানি ও
হালকা লবণ দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পরে সেই ভেজানো
পানি ফেলে দিয়ে কাঠ বাদাম গুলো সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলুন। আর যদি
আপনি ভিজিয়ে রাখার পর সেটা সংরক্ষণ করতে চান তারা অবশ্যই
ঢাকনাযুক্ত বাটিতে করে ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে হবে।
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, পরিশেষে বলা যায় সঠিক নিয়মে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে
কাঠবাদামের উপকারিতা সহজেই পাওয়া যায়। আশা করছি, এই আর্টিকেলটি
পড়ে আপনি এই বিষয়ে অল্প কিছু হলেও কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা,
অপকারিতা এবং কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম জানতে সক্ষম হয়েছেন। যদি এ
বিষয়ে আপনাদের মাঝে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই
আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কাঠবাদাম খাওয়ার নিয়ম
নিয়ে লেখা আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট ও শেয়ার
করতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য
আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
Present_Tech_BD এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url